নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | 24 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের দরপতন রোধ, লেনদেনে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে ৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তবে এ সহায়তা দেওয়ার আগে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) পুনর্গঠন করে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। শেয়ারবাজারের অব্যাহত দরপতন বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মী ও বিনিয়োগকারীরা। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিএমআইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন। এ সময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম মানিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, শেয়ারবাজারকে বর্তমান সংকট থেকে বের করে আনতে প্রথমে আইসিবিকে পুনর্গঠন করতে হবে। এরপর সরকার থেকে নতুন করে ৫ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে বাজারে তারল্য বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ জন্য আইসিবির কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় পাঁচটি ব্যাংকের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ারসংক্রান্ত ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান ইসমাইল হোসেন। তাঁর মতে, ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে নতুনভাবে গঠিত সম্মিলিত ব্যাংকের শেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিসিএমআইএর সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম মানিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে দরপতন চলতে থাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাঁদের অনেকেই সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে গেছেন। এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায়, বিনিয়োগকারীদের দুরবস্থা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে চায় সংগঠনটি।
এ উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়ে ১০ মিনিট সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মানিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পাওয়া গেলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, আইসিবির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং শেয়ারবাজারের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারে তাঁদের প্রস্তাব ও দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।
আইসিবির বর্তমান কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিসিএমআইএর সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের উত্থান-পতনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রয়োজনের সময় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিবির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যক্রমে বাজারের দরপতন প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে আইসিবির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ট্রাস্টি প্রধানকে পরিবর্তন করে এসব পদে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেয়ারবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিনের দরপতনের কারণে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্রমেই কমেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালন করা জরুরি।
বক্তাদের অভিযোগ, বিএসইসির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ডিএসইর তদন্ত কার্যক্রম বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বাজার থেকে দূরে সরে থাকছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একসময় শেয়ারবাজারে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে।
বিনিয়োগকারীরা জানান, শেয়ারবাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিরোধিতা তাঁদের নেই। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হয়রানি করা হলে বাজারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। নিয়ম মেনে বড় অঙ্কের শেয়ার কেনা বিনিয়োগকারীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তাঁরা। পাশাপাশি বিএসইসির চেয়ারম্যানের বক্তব্য এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার দাবিও জানান বক্তারা।
এ ছাড়া শেয়ারবাজারের তারল্যসংকট দূর করতে সরকারি পেনশন তহবিলের অর্থ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিসিএমআইএ। একই সঙ্গে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) বাজারে থাকা কোম্পানিগুলোর অবসায়নের জন্য পৃথক কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের নেতাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে তারল্য বাড়ানো, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং শেয়ারবাজারের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে শেয়ারবাজারে ৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান, আইসিবি পুনর্গঠন এবং বিএসইসি ও ডিএসইর নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়গুলো এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবি ও প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
Posted ৮:৫৭ পিএম | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.